Wednesday , September 28 2022

রাসায়নিক সার ছাড়াই টবে পুঁইশাক চাষ করার সহজ পদ্ধতি!

আমাদের দেশের একটি পরিচিত শাক পুঁইশাক। শাক জাতীয় তরকারীর মধ্যে পুঁইশাক হল সবার সেরা। পুঁইশাক একটি পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু শাঁক। আমাদের দেশে প্রায় সব স্থানেই পুঁইশাকের চাষ করা হয়। পুইশাক চাষে রাসায়নিক সার ব্যবহারে পুইশাকের পাতা আকারে

ছোট আর পাতায় সহজেই দাগে ভরে যায়। ফলে খেতে বিষাদ লাগে, সহজে হজম হতে চায় না। আর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্হা ভালো না হলে প্রায়শই গোড়া পঁচে যায়। পুঁইশাক এর উল্লেখযোগ্য জাত: রঙ ভেদে দু´ধরনের পুইশাক দেখা যায়। লাল ও সবুজ। লাল রঙের জাত হল মনীষা। সবুজ রঙের জাতের মধ্যে ভাল বারি পুইশাক ১(চিত্রা)। সবুজ রঙের পুঁইশাকের

আরও বিভিন্ন ধরণের জাত রয়েছে। তাঁর মধ্যে রয়েছে মাধুরী, গ্রীণ লিক, মোটালতা, রূপসা গ্রিন ইত্যাদি। প্রয়োজনীয় জলবায়ু ও মাটি: গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে পুঁইশাক জন্মে। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া এবং রোদ পুঁইশাক গাছের পছন্দ। কম তাপমাত্রায় গাছের বৃদ্ধি ও ফলন কম হয়। সব ধরনের মাটিতেই পুঁইশাক জন্মে। তবে পুঁইশাক সুনিকাশনযুক্ত বেলে দোআঁশ থেকে এটেল দোআঁশ মাটিতে সবচেয়ে ভাল হয়। তাই টবে পুঁইশাক চাষের ক্ষেত্রে দো-আঁশ, বেলে দো-আঁশ ও এঁটেল মাটি ব্যবহার করা ভালো ।

আসুন জেনে নেই রাসায়নিক সার ছাড়া পুঁইশাক চাষ করার পদ্ধতি:
১) টবে পুঁইশাক চাষের জন্য অর্ধেক দোআঁশ মাটি ও অর্ধেক পচা গোবর বা পচা পাতা সার দিতে হবে। ২) বড় আকারের টব কিংবা সিমেন্টের বস্তায় পুঁই গাছ লাগাতে পারেন। মাটি ও সার মিশানো মাটির ওপর বীজ ছিটিয়ে দিয়ে তার ওপর আবার হালকা করে মাটি দিয়ে পানি দিতে হবে। বীজ লাগানোর আগে ছত্রাকনাশক দিয়ে বীজ রোগ মুক্ত করতে হবে। এছাড়া রাতে পানিরর মধ্যে ভিজিয়ে রেখে

পরের দিন সকালে টবের মধ্যে তৈরি করা মাটিতে গর্ত করে বীজ পুঁতে দিলেও হবে। ৩) পুঁইশাক বেড়ে ওঠার জন্য কোনরকম রাসায়নিক বা কৃত্রিম সার দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ নয়। পুঁইশাকের জন্য ভীষণ প্রয়োজনীয় হলো তরল সার। এর জন্য সরিষার খৈল দিয়ে তরল সার বানিয়ে ১৫ দিন অন্তর টবে দিয়ে দিতে হবে। সাথে শাক সবজি খোসা পচিয়ে তৈরি সার দিতে হবে। সার গাছের গোড়া থেকে যেন

৬ ইঞ্চি দূরে গর্ত করে সার প্রয়োগ করতে হবে। ৪) গাছের পাতা অনেক সময় কুঁকড়ে যায়। গাছে পোকা হয় তার ফলে পাতা ফুটো ফুটো হয়ে যায়। এর জন্য বাড়িতেই তৈরি করে ফেলতে পারেন প্রাকৃতিক কীটনাশক। নিমপাতা ফুটিয়ে তার পানি দিতে পারেন। এতে অনেকটা উপকার পাওয়া যায়। অনেক সময় পুঁইশাকের গাছের গোড়ায় ছত্রাকের আক্রমণ দেখা যায়। তার জন্য গোড়ায় ছাই দিন। এটি করলে পুঁইশাক এর রোগ বালাই থেকে অনেকটা দূরে থাকবে।

আগাছা ও নিড়ানি:
টবের ভিতরে আগাছা জমতে পারে তাই খেয়াল করে আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। ফলন বেশি পেতে হলে বাউনি দিতে হবে। পুঁইশাক গাছের গোড়ায় কখনই পানি জমতে দেয়া যাবে না। তাহলে গাছের গোড়া পচে যেতে পারে। আবার অনেক বৃষ্টিপাত হলে দেখা যায় যে গোড়ার মাটি ধুয়ে যায়। তাই বৃষ্টির পর গাছের গোড়ায় মাটি দিয়ে চেপে দিতে হবে। চারা ২৫-৩০ সেন্টিমিটার উঁচু হলে আগা কেটে দিতে হবে, এতে গাছ ঝোপালো হয়। রাসায়নিক সার মুক্ত, দাগবিহীন আর আকাড়ে বড় পাতাগুলো তুলে খেয়ে দেখুন। স্বাদে বেশ লাগবে!

About Susmita Roy

Check Also

উকুন মারার মহৌষধ পুদিনা চাষ করুন বাড়ির ছাদে, জেনে নিন পদ্ধতি!

উকুন মারার মহৌষধ পুদিনা চাষ করুন বাড়ির ছাদে, জেনে নিন সহজ পদ্ধতি!

পুদিনা পাতা খুবই পরিচিত এক ঔষধি গাছ |খাবারের স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি পুদিনা পাতার রয়েছে অনেক …

Leave a Reply

Your email address will not be published.