ফ্রিজে খাবার সতেজ থাকে না, সবজি শুকিয়ে যায়, খাবারে গন্ধ! ফ্রিজ সংক্রান্ত সব সমস্যার সমাধান জেনে নিন

ফ্রিজ ছাড়া এখনকার দিনে আমাদের জীবন অচল। প্রায় সব বাড়িতেই সবজি কিংবা মাছের বাজার হয় রবিবার। সেখান থেকেই খাওয়া চলে সপ্তাহজুড়ে। আমরা ভাবি ফ্রিজে খাওয়ার রাখলেই নিশ্চিন্ত…যখন খুশি বের করে খাওয়া যাবে।

কিন্তু খাবার গরম করতে গিয়ে দেখা গেল খারাপ হয়ে গিয়েছে। আর তাই ফ্রিজে খাবার রাখলে মেনে চলতে হবে বেশ কিছু নিয়ম। খাবার ফ্রিজে রাখার সময় অবশ্যই ভেতরের তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে হতে হবে এবং ডিপ ফ্রিজের তাপমাত্রা মাইনাস ১৫ থেকে মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হতে হবে। প্রচন্ড গরমে অনেকেই বলেন যে ফ্রিজে রাখা খাবার সতেজ থাকে না, সবজিগুলো কেমন শুকিয়ে যায়, রান্না করা

খাবারে গন্ধ হয়ে যায় কিংবা এক খাবারের গন্ধ মিশে যায় অন্য খাবারের সঙ্গে। অনেকেই বুঝতেই পারেন না কেন ফ্রিজে রাখা সত্ত্বেও দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে খাবার, কিংবা কেন ডিপ ফ্রিজে রাখা মাছ মাংসের স্বাদ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে! এই সমস্ত সমস্যার সমাধান পেতে জেনে নিন ফ্রিজে কীভাবে খাবার রাখবেন। সবজি- এতদিন প্লাস্টিকেরব্যাগেই সবজি রাখতেন তো? আজ থেকে এই অভ্যোস বদলে ফেলুন। কাগজের ব্যাগ কিংবা

খবরের কাগজে মুড়ে সবজি রাখুন। এতে খাবার তরতাজা থাকবে আর নষ্টও হবে না। কিংবা পোকা ধরবে না। ক্যাপসিকাম এইবাবে ফ্রিজে রাখলে অনেকদিন ভালো থাকে। শাক- শাক, ধনেপাতা ফ্রিজে রাখার সময় গোড়া-সহ রাখবেন। কিংবা শাক ভালকা ভাপিয়েও কৌটোয় ভরে রাখতে পারেন। বেগুন রাখার সময় তেল মাখিয়ে নেবেন একটু। ফ্রিজের দরজায় কিছু রাখবেন না- ফ্রিজের দরজায় লেবু, আদা এসব রাখবেন না। ভিনিগার, সস ইত্যাদির বোতল ফ্রিজের দরজায় রাখুন। মাখন- মাখন, চিজ এসব আমরা এমনিই ফেলে রাখি। কিন্তু মাখনকে দীর্ঘদিন

ভালো রাখতে চাইলে অবশ্যই এয়ারটাইট কোনও পাত্রে রাখুন। মাছ- মাংস- মাংছ মাংস ভালো করে ধুয়ে নুন, গোলমরিচের গুঁড়ো আর লেবুর রস মাখিয়ে এয়ার টাইট কন্টেনারে রাখুন। কাটা পেঁয়াজ কিংবা আদা, রসুন ছাড়িয়ে ফ্রিজে রাখতে চাইলে আগে ওতে হালকা নুন মাখিয়ে নিন। এবার এয়ার টাইট কৌটোতে করে ফ্রিজে রাখুন। ডিম ট্রেতে না রেখে সবসময় বাটির মধ্যে রাখার চেষ্টা করুন। এতে ভালো থাকবে ডিম। ফ্রিজে সবসময় কাঁচা লেবুর টুকরো রাখুন। এছাড়াও ১০ দিন অন্তর গরম জলে বেকিং সোডা ফেলে ফ্রিজ মুছে নিন। এছাড়াও আর যা যা

মাথায় রাখবেন কখনই কোনও খাবার ঢাকা ছাড়া রাখবেন না। এতে খাবারের গুণগত মান নষ্ট হয়ে যায়। খাবার নষ্ট হয়। আর তা শরীরের পক্ষেও খারাপ। গুঁড়ো দুধ, বিস্কুট কিংবা চানাচুর কৌটোয় ভরে ফ্রিজে রাখুন। এতে অনেকদিন মুচমুচে থাকবে। খেতেও ভালো লাগবে। ফল যেটুকু খাবেন সেটুকুই কেটে ফ্রিজে রাখুন। অতিরিক্ত ফল কাটবেন না। ডিপ ফ্রিজে রাখা রান্না করা মাছ মাংস বের কারর ৪ ঘন্টার মধ্যে খান। নইলে খারাপ হয়ে যাবে। যে কোনও রান্না করা খাবার এক বা ২ ঘণ্টার মধ্যে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এর আগেই সংরক্ষণ করুন। রান্না

করা খাবার আগে বাইরে রেখে ঠান্ডা করে তারপর ফ্রিজে ঢোকান। যেকোনো খাবার ফ্রিজে রাখার সময় ঢাকনা ব্যবহার করুন। অন্য খাবারের তুলনায় রান্না করা ডাল তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। তাই ডাল প্রয়োজনমতো রান্না করুন। খাওয়ার পর বাড়তি থেকে গেলে মাইক্রোওভেনে গরম করে নিন। এরপর ঠান্ডা করে ফ্রিজে রাখুন। পুরভরা যেকোনো খাবার তৈরির সময় পুর ঠান্ডা করে তারপর ব্যবহার করুন। ফ্রিজ থেকে বের করেই খাবার গরম করতে দেবেন না। বাইরে একটু রেখে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আসার পর খাবার গরম করুন। খাবারে যেন হাতের স্পর্শ না লাগে। তাহলে তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

About Susmita Roy

Check Also

These signs can tell whether the fetus is a boy or a girl

গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে এই ১১টি লক্ষণে বুঝতে পারবেন

প্রতিটি নারীর জীবনেই একটি বিশেষ সময় প্রেগন্যান্সির এই নয় মাস। নিজের শরীরে একটা প্রাণের তিলে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.