বাড়ির দেয়ালে ড্যাম্প বা স্যাঁতসেঁতে ভাব দূর করার ঘরোয়া কৌশল

কোনও বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে থাকার পর, সেই বাড়ির দেওয়াল ড্যাম্প (Damp in Wall) হতে শুরু করে। দেওয়ালের এই স্যাঁতস্যাঁতে ভাবকে নোনা ধরা বলা হয়। দেওয়ালে নোনা ধরা স্বাভাবিক ও সাধারণ ঘটনা হলেও

সময়ের মধ্যে মেরামত না করলে তা বাড়ির সৌন্দর্য তো নষ্ট করেই, পাশাপাশি বাড়ির দেওয়ালকে (Wall) দুর্বল করে দেয়। তাই ড্যাম্প নিয়মিত মেরামত করা অত্যন্ত জরুরি। এখানে কয়েকটি ঘরোয়া উপায় বলে দেওয়া হল, যা করলে সহজেই নোনা ধরার হাত থেকে মুক্তি পেতে পারেন-

নোনা কেন ধরে?
১. আমাদের দেশের স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়া, ঝড়-বৃষ্টি, ড্যাম্প (Damp) হওয়ার অন্যতম কারণ। এ ছাড়াও দেওয়ালের গাঁথনিতে জল জমে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নোনা ধরে থাকে। ২. বাড়ি তৈরির সময় যদি অধিক পরিমাণে সোডিয়াম সালফেট, ক্যালশিয়াম কার্বোনেট, ম্যাগনেশিয়াম সালফেট, ক্লোরাইড, নাইট্রেট ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়, তা হলে দেওয়ালে সাদা আস্তরণ পড়তে পারে। ৩. উপযুক্ত জল নিকাশি ব্যবস্থার অভাব, কাঁচা ইঁটের ব্যবহার, বাড়ি তৈরির সিমেন্ট ও অন্যান্য সামগ্রীর গুণমান যথাযথ না-হলেও নোনা ধরে প্লাস্টার খসে পড়তে পারে।

নোনা দূর করার ঘরোয়া উপায়-
1. যথাযথ ভেন্টিলেশন-ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা যথাযথ না-হলে দেওয়ালে ড্যাম্প ধরতে পারে। এক্ষেত্রে দরজা ও জানলা যাতে মুখোমুখি হয় তা লক্ষ রাখুন। এর ফলে বাড়ির দেওয়ালে সমান ভাবে রোদ ও হাওয়া লাগবে। আবার বর্ষাকালে বাড়ির পর্দা ভিজে গেলে, তা নিয়মিত পরিবর্তন করতে হবে।
2. রং- বাড়িতে চুনকাম করালে নোনা ধরার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। তাই অ্যাক্রিলিক ইমালশন দিয়ে প্লাস্টিক পেন্ট করানো উচিত। একবার ঘর রঙ করিয়েই যে সারা জীবনের মতো নোনা ধরার হাত থেকে মুক্তি পাবেন তা নয়। বরং ১ থেকে ২ বছর অন্তর অন্তর একবার ঘর রঙ করানো উচিত।

3. প্লাস্টার- বাড়িতে নোনা ধরে গেলে বাড়ির কাঠামোর রিমডেলিং করানো উচিত। এক্ষেত্রে পুরনো প্লাস্টার ছাড়িয়ে নতুন প্লাস্টার করান। এই প্লাস্টারে নোনা রেজিস্টেন্ট রাসায়নিক ব্যবহার করতে পারেন। আবার ঘর রঙ করানোর আগে অ্যান্টি ফাঙ্গাল সলিউশান লাগিয়ে নিতে পারেন। এটি নোনা ধরা প্রতিরোধ করে, পাশাপাশি দেয়ালের স্থায়িত্ব ও শক্তি বৃদ্ধি পায়।
4. কাঠের দেওয়াল কাঠের ফ্রেম- অতিরিক্ত আর্দ্রতা শোষণ করে নিতে পারে। তাই কংক্রিটের দেওয়ালে কাঠের ফলস দেওয়াল লাগাতে পারেন। এর ফলে নোনা ধরা কমবে, পাশাপাশি বাড়ির সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পাবে।

5. কিউরিং- কংক্রিটের প্লাস্টার শুকিয়ে যাওয়ার পরও তার আর্দ্রতা বজায় রাখা জরুরি। তবে এ বিষয়টিকে আমরা গুরুত্ব দিই না। প্লাস্টার হওয়ার ২০ দিন পর রং না-করলে নোনার হাত থেকে মুক্তি পাবেন না। রং করার আগে স্যান্ডপেপার দিয়ে দেওয়াল ভালো করে ঘষে নিতে হবে। তার পর এতে প্রাইমার লাগান। এই প্রাইমারই প্লাস্টার ও রঙের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। রঙ করার সময় রোলার ব্যবহার করুন। এই প্রক্রিয়ায় দেয়ালের জল শোষণ করার ক্ষমতা কমে যাবে ও নোনা কম লাগবে। দেওয়ালে যাতে ফাটল না-ধরে তার জন্য এনামেল পুট্টি ব্যবহার করতে পারেন।

এ ছাড়াও যা করতে পারেন-
১. বাড়ির জল নিকাশি ব্যবস্থা ঠিক রাখুন। ড্রেনেজ, রেনপাইপ ঠিকঠাক কাজ করছে কি না তা দেখে নিন।
২. ইঁটের ফাঁকে ফ্লাশ পয়েন্টিং করাতে ভুলবেন না। আবার বৃষ্টির জল যাতে ছাদে না-দাঁড়াতে পারে তার জন্য ঢাল ঠিক রাখুন। জানলায় সানশেড দিন।
৩. আধ কেজি তেঁতুল ও আড়াইশো গ্রাম রসুনের রস বার করে রেখে নিন। এর পর ভালো ভাবে ব্রাশ দিয়ে দেওয়াল পরিষ্কার করে তেঁতুল ও রসুনের রস লাগিয়ে দিন। তার পর ঘর রঙ করাবেন। এই উপায় সহজে নোনা ধরে না।

About Susmita Roy

Check Also

শিশুকে বকাবকি নয়, তার মন বুঝুন

শিশুকে বকাবকি নয়, তার মন বুঝুন আগে!

ছোটরা ভুল করবে, শিখবে। তাদের বেড়ে ওঠার পথটা সুন্দর করাই বড়দের দায়িত্ব। কিন্তু অনেক বাবা-মা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *