যেসব খাবার খেলে শরীরে হু হু করে বাড়ে ইউরিক অ্যাসিড!

ইউরিক অ্যাসিড একটি মারাত্মক সমস্যা। এই অসুখে আক্রান্ত হলে প্রতিটি মানুষকে অবশ্যই হয়ে যেতে হবে সতর্ক। তবেই সমস্যার করা যাবে সমাধান। আসলে ইউরিক অ্যাসিড (Uric Acid) হল শরীরের ওয়েস্ট প্রোডাক্ট। আমরা প্রোটিন (Protein) খাই। সেই প্রোটিনে

থাকে পিউরিন। এবার সেই পিউরিন ভেঙে তৈরি হয় ইউরিক অ্যাসিড। এক্ষেত্রে প্রতিটি মানুষের শরীরেই ইউরিক অ্যাসিড থাকে। বাড়তি ইউরিক অ্যাসিড বেরিয়ে যায় কিডনির মাধ্যমে। তবে অনেকের শরীরে এই কাজটা ঠিকমতো হয় না। ফলে শরীরে বেড়ে যায় ইউরিক অ্যাসিড। তাই প্রতিটি মানুষকে অবশ্যই এই বিষয়টি নিয়ে হয়ে যেতে হবে সতর্ক। আসলে শরীরে ইউরিক অ্যাসিড বাড়লে তা গিয়ে

জমে বিভিন্ন জয়েন্টে (Joint)। এবার সেই জয়েন্টে ইউরিক অ্যাসিড জমার কারণে সমস্যা দেখা দেওয়া হয়ে যায় খুবই স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে গাউট আর্থ্রাইটিস (Gout) হয়। এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে খুব ব্যথা হয়। জায়গাটা ফুলে যেতে পারে। এমনকী জ্বালাও করা সম্ভব। এবার এই রোগটি সম্পর্কে কলকাতার রুবি হাসপাতালের বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা: আশিস মিত্র বলেন, এক্ষেত্রে সমস্যা দেখা

দেওয়া খুবই স্বাভাবিক। আর দেখা গিয়েছে যে এই রোগের নেপথ্যে অনেক সময়ই থাকে ডায়েটের (Diet) ভুলভ্রান্তি। তাই কয়েকটি খাবার এডিয়ে যেতে হবে।

​১. রেড মিট-
রেড মিট (Red Meat) বা আমার আপনার প্রিয় পাঁঠার মাংস রবিবার করে রান্না হয়। এবার পাঁঠার মাংস হল এক ধরনের রেড মিট। এই মাংস অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যা তৈরি করে দিতে পারে। কারণ রেড মিটে রয়েছে মাত্রাতিরিক্ত প্রোটিন (Protein)। আর রেড মিটের প্রোটিন অনেকটা পরিমাণে ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হয়। তাই এই সমস্যা থাকা মানুষকে অবশ্যই রেড মিট খাওয়া থেকে দূরে থাকতে হবে।
২. ​চিংড়ি-
চিংড়ি (Prawn) খেতে ভালোবাসা মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়। অসংখ্য মানুষ চিংড়ি খান। এবার চিংড়িতে রয়েছে ভালো পরিমাণে প্রোটিন। তাই চিংড়ি খেলেও সমস্যা হতে পারে। সেক্ষেত্রে ইউরিক অ্যাসিড অনেকটা বেশি থাকলে চিংড়ি থেকে দূরে থাকুন। তবেই সমস্যা থেকে দূরে থাকা হয়ে যাবে সম্ভব।

​২. সামুদ্রিক মাছ-
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে সামুদ্রিক মাছ খেলেও এই সমস্যা বাড়ে। এক্ষেত্রে আমাদের খুব পরিচিত ইলিশ, পমপ্লেট খেলেও কিন্তু সমস্যা দেখা দিতেই পারে। এমনকী কেউ ক্যানবন্দি বিদেশি সামুদ্রিক মাছ যেমন স্যালমন, টুনা খেলেও সমস্যা হতে পারে। তাই ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যায় ভোগা প্রতিটি মানুষকে অবশ্যই এই বিষয়টি নিয়ে হয়ে যেতে হবে সাবধান।

৩. ​দানা থাকা সবজি-
ডা: মিত্রের কথায়, বিভিন্ন দানা জাতীয় সবজি যেমন ঢ্যাঁড়শ, টেমেটো থেকে মানুষকে দূরে থাকতে হবে। দেখা গিয়েছে এই দানা খেলে সমস্যা বাড়তে পারে। এবার আপনি চাইলে অনায়াসে এই দানা দূর করে সবজিগুলি খেতে পারেন। সেক্ষেত্রে সমস্যা নেই। এছাড়া বিনস জাতীয় খাবারও এড়িয়ে চলতে হবে। ​
৪. সোয়াবিন- সোয়াবিন হল হাই প্রোটিন খাবার। এই খাবার থেকে মানুষের শরীরে একগাদা প্রোটিন পৌঁছয়। এবার সোয়াবিন কিন্তু অত্যন্ত ভালো একটি খাবার। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে মানুষের এই খাবার থেকে সমস্যা হয়। এই যেমন ইউরিক অ্যাসিড বেশি থাকলে এই খাবার নিয়ে অত্যন্ত সচেতন হয়ে যেতে হয়। তবেই ভালো থাকা হয়ে যায় সম্ভব। এছাড়া ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা থাকলে কিন্তু

আপনাকে কিছু ওষুধ খেতে হতে পারে। এক্ষেত্রে চিকিৎসক প্রয়োজন মতো ওষুধ দিয়ে থাকেন। সেই ওষুধেই ভালো থাকা যায়। বি.দ্র: প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

About Susmita Roy

Check Also

যে কারনে মহিলাদের হাঁটুর সমস্যা বেশি হয়!

যে কারনে মহিলাদের হাঁটুর সমস্যা বেশি হয়!

আজকাল বেশিরভাগ মহিলাই মহিলাদের হাঁটু ব্যথার অভিযোগ করেন। সে বাড়িতে থাকুক বা কর্মজীবী ​​নারী। আজকাল …

Leave a Reply

Your email address will not be published.